সোনার দামে বড় ধস: ২ লাখের নিচে নেমে এল, বুধবার থেকে কার্যকর
সোনার দামে বড় ধস: ২ লাখের নিচে নেমে এল, বুধবার থেকে কার্যকর
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর ২০২৫ – বাংলাদেশের সোনার বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। পাঁচ দিনের ব্যবধানে সোনার দামে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে, যার ফলে হলমার্ক করা ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরিতে ২ লাখ টাকার নিচে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস) মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নতুন দাম আগামীকাল বুধবার (২৯ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হবে। এই দরপতনের ফলে ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম এখন ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১০ হাজার টাকা কম।
বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার দামে হ্রাস
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুধু ২২ ক্যারেট নয়, ২১ ক্যারেট এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দামেও বড় অংকের হ্রাস ঘটেছে। নতুন দাম অনুযায়ী:
২১ ক্যারেট সোনা: প্রতি ভরির দাম ১৪ হাজার ৪৮৭ টাকা কমে এখন ১ লাখ ৮৫ হাজার ১৪ টাকা।
১৮ ক্যারেট সোনা: প্রতি ভরির দাম ১২ হাজার ৫২৭ টাকা কমে এখন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪৬৬ টাকা ৪৮ পয়সা।
এছাড়াও, সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি সোনার দামও হ্রাস পেয়েছে। একইভাবে, রুপার দামেও কমেছে, যা সোনার বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারিত হয়েছে।
দাম কমার কারণ
বাজুস জানিয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) এবং অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ায় সোনার দামে এই পতন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের প্রভাবও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। তবে, স্থানীয় বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও এই দাম নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাজুসের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া
বাজুসের দাম নির্ধারণ ও পর্যবেক্ষণ সম্পর্কিত স্ট্যান্ডিং কমিটির এক সভায় এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। সভায় সোনা ও রুপার বাজার মূল্য পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, নতুন এই দাম ২৯ অক্টোবর থেকে সারা দেশে কার্যকর হবে।
বাজারে প্রভাব
সোনার দামে এই হ্রাস ক্রেতাদের জন্য সুখবর হলেও, বিক্রেতা ও জুয়েলারি শিল্পের জন্য এটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে, যারা উচ্চ দামে সোনা কিনে রেখেছিলেন, তারা এই দরপতনের কারণে লোকসানের মুখে পড়তে পারেন। তবে, বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দাম হ্রাসের ফলে সোনার গহনার চাহিদা বাড়তে পারে, বিশেষ করে আসন্ন উৎসব মৌসুমে।
সোনার দামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে সোনার দাম গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালের শুরুতে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ১ লাখ টাকার কাছাকাছি ছিল, যা ২০২৪-এর মাঝামাঝি সময়ে ২ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে, ২০২৫ সালে এসে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের প্রভাবে দামে এই হ্রাস দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক মাসে সোনার দাম আরও ওঠানামা করতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
ক্রেতাদের জন্য পরামর্শ
কেনার সময় সতর্কতা: সোনা কেনার সময় হলমার্ক সার্টিফিকেট যাচাই করা জরুরি। এটি সোনার গুণগত মান নিশ্চিত করে।
বাজার পর্যবেক্ষণ: দামের ওঠানামার কারণে ক্রেতাদের বাজারের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
নির্ভরযোগ্য দোকান: শুধুমাত্র বাজুস-অনুমোদিত জুয়েলারি দোকান থেকে সোনা কেনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সোনার দামে এই পতন বাংলাদেশের জুয়েলারি বাজারে নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে। ক্রেতারা এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন, তবে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বাজুসের নতুন দাম কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারের গতিশীলতা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস)
কোন মন্তব্য নেই