হাসিনার পরিবারের সম্পত্তি নষ্ট করা বা কোনো নাগরিকের ওপর হামলা থেকে বিরত থাকতে আহ্বান : প্রধান উপদেষ্টা
হাসিনার পরিবারের সম্পত্তি নষ্ট করা বা কোনো নাগরিকের ওপর হামলা থেকে বিরত থাকতে আহ্বান : প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, হাসিনার পরিবারের সম্পত্তি নষ্ট করা বা কোনো নাগরিকের ওপর হামলা থেকে বিরত থাকতে। তিনি সকলকে নিজেদের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলতা প্রদর্শনের জন্য আহ্বান করেছেন, যেন আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়।
শুক্রবার তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পৃষ্ঠায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেন, শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ধরে জনগণের ওপর অত্যাচার আর নিপীড়নে ক্ষমতা ধরে রেখেছেন, যা স্বাভাবিকভাবে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
তিনি সতর্ক করেছেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরেও শেখ হাসিনা দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এই অবস্থায় আমাদের বুঝতে হবে যে, আইন মেনে চলা খুব জরুরি।’
অধ্যাপক ইউনূস আরো বলেন, ‘সব নাগরিকের মধ্যে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রতিষ্ঠা করে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশের নির্মাণে এগিয়ে যেতে পারি। আসুন, আমরা বাংলাদেশের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা সংরক্ষণে সচেতন থাকি। নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তির জন্য আইন ভঙ্গের কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি গত জুলাই ও আগস্টে শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে যাঁরা প্রজ্বলিত হয়েছিলেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাদের একে অপরের মানবাধিকারকে সম্মান করার এবং আইন মেনে চলার বিষয়ে কঠোর প্রতিজ্ঞা থাকতে হবে। এটাই আমাদের পরিচয়ের এক নম্বর চিহ্ন।’
প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, নতুন বাংলাদেশের বিজয়ীদের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি হবে যে তারা রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে, সেই সঙ্গে স্বৈরাচারী হাসিনার শাসনকালকে আবার ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি না করেন। তিনি বলেন, “আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী এই সংকটময় পরিস্থিতির জন্য সচেতন রয়েছে। সরকারের অভিপ্রায় হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমর্থন করা। যদি সম্পত্তির বিনাশ, ব্যক্তির ওপর আক্রমণ বা উসকানিমূলক কার্যকলাপের মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়, তাহলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের এবং গোষ্ঠীকে বিচারকের কাছে সোপর্দ করা হবে।”
ফ্যাসিস্ট শাসকদের দেশকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যতদিন আমরা সতর্ক থাকব এবং নীতি-নৈতিকতা রক্ষা করব, ততদিন তাদের পুনরাবৃত্তির কোনো সুযোগ থাকবে না। তাদের সম্পত্তিতে আক্রমণ তারা আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের পক্ষ থেকে কৃত্রিম গল্প প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবহার করবে।”
মানবতাবিরোধী অপরাধের সংক্রান্ত বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়ে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে তা বিশ্ব মহলে ভুল সংকেত পাঠাবে।”
প্রধান উপদেষ্টা দেশের সব নাগরিককে একটি শক্তিশালী, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আহ্বান জানান, যেখানে সকল বাংলাদেশি আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।

কোন মন্তব্য নেই