যুক্তরাষ্ট্রে বিমান-হেলিকপ্টার সংঘর্ষ: সর্বশেষ খবর

 যুক্তরাষ্ট্রে বিমান-হেলিকপ্টার সংঘর্ষ: সর্বশেষ খবর 

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী জেট বিমানের সঙ্গে একটি সামরিক হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ হয়েছে। ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানায়, স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৯টার দিকে রিগান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের রানওয়ে ৩৩-এর কাছে এই ঘটনা ঘটে। 

যুক্তরাষ্ট্রে বিমান-হেলিকপ্টার সংঘর্ষ: সর্বশেষ খবর
যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে সামরিক হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাত্রীবাহী বিমানটিতে ৬০ জন যাত্রী ও ৪ জন ক্রু সদস্য ছিলেন, এবং হেলিকপ্টারে ছিলেন ৩ জন মার্কিন সেনা। আহত বা হতাহতের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে সিবিএস নিউজের মাধ্যমে পুলিশ জানিয়েছে যে তারা ইতোমধ্যে ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

বিমানটি পোটোম্যাক নদীতে বিধ্বস্ত হয়েছে, এবং ইতোমধ্যে উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে। নৌকা ব্যবহার করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান চলছে। এফএএ জানায়, দুর্ঘটনায় আমেরিকান ঈগল ফ্লাইট ৫৩৪২, যা উইচিটা, কানসাস থেকে ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে উড়াল দিচ্ছিল, আবহাওয়া বৈরী ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। 

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমানটি দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে, এবং হেলিকপ্টারটি পানির উপরে উল্টে ছিল। দুর্ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হেলিকপ্টারটি একটি ইউএস আর্মির ব্ল্যাক হক, যেখানে কোনো উচ্চপদস্থ সেনা সদস্য ছিলেন না।

ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস পূর্বাভাস দিয়েছে যে অঞ্চলটিতে রাতের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে যেতে পারে, যা উদ্ধার কার্যক্রমে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাপমাত্রা মাইনাস ১ থেকে মাইনাস ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে, এবং গত সপ্তাহে নদীর কিছু অংশে বরফ জমেছে। রিগান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, সেখানকার সমস্ত ফ্লাইট আপাতত স্থগিত রয়েছে।

এয়ারলাইন্সগুলোকে ২৮ মাইল দূরে অবস্থিত ডালাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ  

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মতে, তারা আকাশে উজ্জ্বল আলো দেখতে পান। প্রত্যক্ষদর্শী অরি শুলম্যান জানান, তিনি আকাশে 'বৃহৎ আতশবাজির' মতো এক ধরনের 'স্ফুলিঙ্গ' পর্যবেক্ষণ করেছেন। তখন তিনি বিমানবন্দরের পাশে জর্জ ওয়াশিংটন পার্কওয়ে দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, “আমি প্রায়ই সেখানে বিমান অবতরণ করতে দেখি, তাই প্রথমে কিছু অস্বাভাবিক মনে হয়নি। সবকিছু স্বাভাবিক ছিল, বিমানটি ঠিকঠাক এগিয়ে আসছিল।”

কিন্তু পরে হঠাৎ করে তিনি দেখেন যে, বিমানটি ডানদিকে প্রায় ৯০ ডিগ্রি কোণে কাত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “বিমানটির নিচের অংশ আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম, যা এতো অন্ধকারে দেখা যাওয়ার কথা নয়। বিমানটির নিচে উজ্জ্বল হলুদ আলো এবং সামনের দিক থেকে পেছন পর্যন্ত স্ফুলিঙ্গ দেখতে পাই, যা অনেকটা আতশবাজির মতো ছিল। কিন্তু বিস্ফোরণের শব্দ না পাওয়া এবং আগুনের গোলা কিংবা দুর্ঘটনার অন্য কোনো লক্ষণ দেখতে না পাওয়ায় আমি রাস্তার দিকে মনোযোগ দিই। তখন মনে হল, আমি কি ভুল দেখছি? এত বড় দুর্ঘটনার পর কেন কিছুই দেখতে পেলাম না?” 

কিছুক্ষণ পর, যখন তিনি সামনে এগিয়ে যান, তখন দেখতে পান চারপাশে জরুরি উদ্ধারকর্মীদের ভিড় জমে গেছে। 

আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী, আকাশে তারা সদৃশ সাদা আলো দেখতে পেয়েছেন। হামাদ রাজা, যিনি দুর্ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী, জানালেন যে তিনি রিগ্যান ওয়াশিংটন জাতীয় বিমানবন্দরে তার স্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন, যিনি আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বিমানে ছিলেন। তিনি সংবাদ মাধ্যম সিবিএস নিউজের স্থানীয় সহযোগীকে জানান, “সে আমাকে টেক্সট করেছে যে সে ২০ মিনিটের মধ্যে অবতরণ করবে।”

তিনি আশা করছেন নদী থেকে তার স্ত্রীর উদ্ধার হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যের আইনপ্রণেতারা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুর্ঘটনাটিকে একটি ভয়ংকর ঘটনা বলে বর্ণনা করেছেন এবং জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে 'অসাধারণ দ্রুততার সাথে কাজের' জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর, পেন্টাগন, নিশ্চিত করেছে যে তারা পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে সহায়তা প্রদান করবে। নতুন পরিবহণ সচিব শন ডাফি জানিয়েছেন যে, তিনি এফএএ-এর সদর দফতরে থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। 

ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) যৌথভাবে দুর্ঘটনার তদন্ত করবে। এদিকে, আমেরিকান এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী রবার্ট ইসম জানান, দুর্ঘটনার শিকার যাত্রীদের উদ্ধারে সম্ভাব্য সব কিছু করা হচ্ছে।








একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন