রবীন্দ্রনাথের গান ‘আলো আমার, আলো ওগো, আলো ভুবন-ভরা। আলো নয়ন-ধোওয়া আমার, আলো হৃদয়-হরা॥’ রাজশাহীর অলিগলিতে বেজে উঠলেই পাঠকেরা ছুটে আসতেন পাঠাগার থেকে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিতে এই গান পরিবেশন করা হতো। তবে, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবার গাড়িটি শহরের মোড়ে আর ঘুরবে না এবং পাঠকেরাও সেই গাড়ির কাছে আসবেন না।
দুই দিন আগে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এই কর্মসূচি স্থগিত করেছে। এখন ঢাকায় ফিরে যাওয়ার আগে বইয়ের হিসাব-নিকাশ চলছে। কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, প্রকল্প পুনরায় চালু হলে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি আবার চলবে। কিন্তু, পাঠকেরা এই অনিশ্চিত বিরতি প্রতিহত করতে পারছেন না। তাদের দাবি, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত ছিল যেন এক দিনের জন্যও গাড়িটি বন্ধ না হয়।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পটি সরকারি অনুদানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে শ্রমিকদের বেতন এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ সরকারি উৎস থেকে আসে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তাদের গাড়ি এবং বই সরবরাহ করে। প্রকল্পটি প্রথমে দুই বছরের জন্য চালু হয়েছিল এবং পরে আবার দুই বছরের জন্য বাড়ানো হয়। এখন এটি ছয় বছর বয়ে গেছে, কিন্তু এবার মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া সম্ভব হয়নি। কর্মকর্তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে নতুন নামে একটি প্রকল্প শুরু হবে।
রাজশাহী শহরে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির ১৯,১৩৯ জন কার্ডধারী সদস্য রয়েছে, তাদের মধ্যে নিয়মিত সদস্য ২,২০০ জন। শনিবার ছাড়া প্রতিদিন এই গাড়িটি আট ঘণ্টা ধরে শহরের ৪৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে বই বিতরণ করে আসছে। বর্তমানে পাঠাগারে বইয়ের সংখ্যা ১৯,০০০।
