চাঁদের অপেক্ষায় বিশ্ব মুসলিম: রমজান ২০২৬-এর রহস্যময় শুরু, যেসব দেশ ইতিমধ্যে ঘোষণা দিল!
প্রিয় পাঠক, কল্পনা করুন—একটি রাত, যখন আকাশে একটি সূক্ষ্ম চাঁদের কাটা দাগ ফুটে উঠবে, আর সেই মুহূর্তেই শুরু হয়ে যাবে পবিত্র রমজান মাসের আধ্যাত্মিক যাত্রা। ২০২৬ সালের এই রমজান যেন এক অদ্ভুত রহস্যের মতো! জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, চলতি সপ্তাহেই—১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি—রোজা শুরু হতে পারে। কিন্তু চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে সবকিছু। আর ইতিমধ্যে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ এই তারিখ ঘোষণা করে দিয়েছে! আসুন, এই খবরের গভীরে ডুব দিয়ে জেনে নিই, কীভাবে বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই বরকতময় মাসের জন্য।
রমজানের শুরু: চাঁদের খেলা, না বিজ্ঞানের হিসাব?
ইসলামী ক্যালেন্ডার হলো চাঁদভিত্তিক। প্রতি মাস শুরু হয় নতুন চাঁদ দেখার মাধ্যমে। তাই প্রতি বছর রমজান ১০-১২ দিন আগে চলে আসে। এবারের বছরটি বিশেষ—কারণ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস বলছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি চাঁদ দেখা প্রায় অসম্ভব। কেন? সূর্যাস্তের আগেই চাঁদ অস্ত যাবে, সূর্য-চাঁদের দূরত্ব ড্যানজন সীমার নিচে, আর সবচেয়ে বড় কথা—সেই দিন একটি বিরল বলয়াকার সূর্যগ্রহণও ঘটবে! ফলে, অনেক দেশ শাবান মাসকে ৩০ দিন পূর্ণ করে ১৯ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছে।
এই খবরটি এসেছে ধাকা পোস্টের ধর্ম বিভাগ থেকে, যেখানে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ঘোষণা। চলুন, দেশভিত্তিক বিশ্লেষণ করি—যাতে আপনি নিজের পরিকল্পনা করতে পারেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: দুবাইয়ের চাঁদ-দর্শনের অপেক্ষা
দুবাইয়ের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাক্টিভিটিজ ডিপার্টমেন্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে—১৯ ফেব্রুয়ারি রমজানের প্রথম দিন হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে ঐতিহ্য অনুসারে, চাঁদ দেখার পরই চূড়ান্ত ঘোষণা। আমিরাতের মতো দেশে, যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মসজিদ থেকে শুরু করে বিলাসবহুল জীবন, সেখানে রমজান মানে শুধু রোজা নয়—একটি সামাজিক উৎসবও। ইফতারের টেবিলে থাকবে তারিখ, লাবান, আর মধ্যপ্রাচ্যের স্বাদে ভরা খাবার। আপনি যদি সেখানে থাকেন, তাহলে প্রস্তুত হয়ে নিন—রাত ৮টার পর ইফতারের জন্য রেস্তোরাঁগুলো ভরে উঠবে!
ওমান: উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম ঘোষণা
উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সবার আগে ওমান ঘোষণা দিয়েছে—১৯ ফেব্রুয়ারি রোজার প্রথম দিন! সরকারি হিজরি মাস নির্ধারণ কমিটি জানিয়েছে, ১৭ তারিখে চাঁদ দেখা যাবে না, তাই শাবান ৩০ দিন পূর্ণ হবে। ওমানের মরুভূমির মাঝে মসজিদের আজান যেন রমজানের সুর তুলবে। এখানে রোজাদাররা সকালে সাহরি খেয়ে দিনের কাজ শুরু করবেন, আর সন্ধ্যায় ইফতারে মিলবে ওমানি মাংসের সালাদ। এই ঘোষণা শুধু দেশের নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য একটি সিগন্যাল!
তুরস্ক: জ্যোতির্বিজ্ঞানের উপর ভরসা
তুরস্কের ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষ আগাম জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ভিত্তিতে ১৯ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি আরব বিশ্ব, মুসলিম অঞ্চল বা আমেরিকায় কোথাও চাঁদ দেখা সম্ভব নয়। তুরস্কে রমজান মানে বাজারে ব্যস্ততা, মসজিদে তারাবির নামাজ, আর রাতের খাবারে তুর্কি কাবাবের স্বাদ। এই দেশের মুসলিমরা বিশ্বাস করেন, বিজ্ঞান আর ধর্মের মিলনে রমজান আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।
সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়া: দূর প্রাচ্য ও দক্ষিণ গোলার্ধের প্রস্তুতি
সিঙ্গাপুরের ইসলামিক রিলিজিয়াস কাউন্সিলও ১৯ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তারা স্থানীয় দৃশ্যমানতা মানদণ্ড অনুসারে হিসাব করে দেখেছে, ১৭ তারিখ সূর্যাস্তের আগেই চাঁদ অস্ত যাবে। একইভাবে অস্ট্রেলিয়ান ফতোয়া কাউন্সিল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবে ১৯ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেছে। অস্ট্রেলিয়ায় রমজানের সময় দিনগুলো দীর্ঘ হয়—সাহরি ভোর ৪টায়, ইফতার সন্ধ্যা ৭টায়! এই দেশগুলোতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেন একটি ছোট বাংলাদেশ তৈরি করেন ইফতার পার্টিতে।
পাকিস্তান: চাঁদের জন্মের অপেক্ষা
পাকিস্তানের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রমজানের চাঁদ জন্ম নেবে। ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের। পাকিস্তানে রমজান মানে লাহোরের বাজারে বিরিয়ানির গন্ধ, করাচির মসজিদে ভিড়, আর পরিবারের সঙ্গে তারাবি। এখানে রোজা ২৯ বা ৩০ দিনের হতে পারে—যা চাঁদের উপর নির্ভরশীল।
বাংলাদেশে কী হবে? আমাদের অপেক্ষা!
বাংলাদেশে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, কিন্তু ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাঁদ দেখা কমিটি ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলাদেশ সাধারণত সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চলে। যদি ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়, তাহলে প্রথম রোজায় ঢাকায় সাহরির সময় ভোর ৫:১৩, ইফতার সন্ধ্যা ৫:৫৬—মোট ১২ ঘণ্টা ৪৩ মিনিটের রোজা! রমজান ২৯ দিনের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, ফলে ঈদ ২০ মার্চ শুক্রবার।
আমাদের দেশে রমজান মানে পুরনো ঢাকার ইফতারের গলি, গ্রামের মসজিদে সেহরির আজান, আর পরিবারের সঙ্গে মিলে দোয়া। এবারের রমজানে যেন আমরা সবাই এক হয়ে উঠি—দান-সদকা করি, কুরআন তিলাওয়াত করি, আর নিজেকে শুদ্ধ করি।
রমজানের প্রস্তুতি: আপনার জন্য কয়েকটি টিপস
এই মাস শুধু খাবার-দাবার নয়, আত্মশুদ্ধিরও।
সাহরি ও ইফতার: পানি, খেজুর, দুধ—স্বাস্থ্যকর রাখুন।
ইবাদত: প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঙ্গে তারাবি যোগ করুন।
সামাজিকতা: প্রতিবেশীদের সঙ্গে ইফতার শেয়ার করুন, দরিদ্রদের সাহায্য করুন।
স্বাস্থ্য: হালকা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম—রোজা যেন ক্লান্তিকর না হয়।
দুবাইয়ের পূর্বাভাস অনুসারে, এবার রমজান ২৯ দিনের হবে, ঈদ ২০ মার্চ। বিশ্বের ১.৮ বিলিয়ন মুসলিম একসঙ্গে এই যাত্রায় নামবে। আপনি কোন দেশে আছেন? আপনার রমজান কেমন হবে? কমেন্টে জানান!
রমজান মোবারক! আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই মাসের বরকত দান করুন।
(সূত্র: ধাকা পোস্ট, গালফ নিউজ, এবং সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক খবর। তারিখ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।)
