রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বামী জিয়াউর রহমানের পাশে খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বামী জিয়াউর রহমানের পাশে খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বামী জিয়াউর রহমানের পাশে খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন:

ঢাকা, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫: বাংলাদেশের রাজনীতির এক যুগের অবসান ঘটল আজ। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, তিনবারের সফল রাষ্ট্রনায়ক এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে তাঁর প্রিয় স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে, রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে (জিয়া উদ্যানে)। এই দাফনের মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক দম্পতির মিলন ঘটল মৃত্যুর পরেও, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

গত ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন এবং জানাজার দিনটিকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। বিএনপি সাত দিনের শোক পালনের ঘোষণা দেয়।

আজ বুধবার বাদ জোহর রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয় খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা। লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে সেখানে। ধানের শীষের প্রতীকে মোড়ানো কফিনে শায়িত ছিলেন তিনি। জানাজায় অংশ নেন বিএনপির নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং বিদেশি কূটনীতিকরা। জানাজা পড়ান বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। জানাজার আগে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মুসল্লিদের কাছে মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া চান।

জানাজা শেষে মরদেহবাহী গাড়ি যায় চন্দ্রিমা উদ্যানে। সেখানে বিকেল সোয়া চারটার দিকে শুরু হয় দাফনের আনুষ্ঠানিকতা। তিন বাহিনীর প্রধানদের উপস্থিতিতে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। খালেদা জিয়ার মরদেহ কবরে নামান তারেক রহমান নিজ হাতে। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা মাটি দেন। কবরটি খোঁড়া হয়েছিল জিয়াউর রহমানের সমাধির পূর্ব পাশে, যাতে দুই সমাধি পাশাপাশি থাকে। নিরাপত্তার কারণে দাফনের সময় সাধারণ জনগণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল।




ঢাকা, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫: বাংলাদেশের রাজনীতির এক যুগের অবসান ঘটল আজ। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, তিনবারের সফল রাষ্ট্রনায়ক এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে তাঁর প্রিয় স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে, রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে (জিয়া উদ্যানে)। এই দাফনের মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক দম্পতির মিলন ঘটল মৃত্যুর পরেও, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

গত ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন এবং জানাজার দিনটিকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। বিএনপি সাত দিনের শোক পালনের ঘোষণা দেয়।

আজ বুধবার বাদ জোহর রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয় খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা। লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে সেখানে। ধানের শীষের প্রতীকে মোড়ানো কফিনে শায়িত ছিলেন তিনি। জানাজায় অংশ নেন বিএনপির নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং বিদেশি কূটনীতিকরা। জানাজা পড়ান বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। জানাজার আগে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মুসল্লিদের কাছে মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া চান।

জানাজা শেষে মরদেহবাহী গাড়ি যায় চন্দ্রিমা উদ্যানে। সেখানে বিকেল সোয়া চারটার দিকে শুরু হয় দাফনের আনুষ্ঠানিকতা। তিন বাহিনীর প্রধানদের উপস্থিতিতে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। খালেদা জিয়ার মরদেহ কবরে নামান তারেক রহমান নিজ হাতে। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা মাটি দেন। কবরটি খোঁড়া হয়েছিল জিয়াউর রহমানের সমাধির পূর্ব পাশে, যাতে দুই সমাধি পাশাপাশি থাকে। নিরাপত্তার কারণে দাফনের সময় সাধারণ জনগণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল।

বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ছিল সংগ্রামের। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৮১ সালে স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর গৃহিণী থেকে রাজনীতির ময়দানে নামেন। স্বৈরাচারী এরশাদের পতন ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনা করেন। তাঁর শাসনামলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত।

তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর (যিনি জানাজায় অংশ নেন), পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ অনেক দেশের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। দেশে বিভিন্ন দলের নেতারা তাঁকে স্মরণ করেছেন গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে।

খালেদা জিয়ার বিদায়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি যুগের সমাপ্তি ঘটল। কিন্তু তাঁর আদর্শ, সংগ্রাম এবং দেশপ্রেম চিরকাল অনুপ্রেরণা যোগাবে নতুন প্রজন্মকে। তিনি এখন শায়িত আছেন স্বামীর পাশে – যেখানে তাঁদের দুজনের স্বপ্নের বাংলাদেশের প্রতীক ধানের শীষ চিরন্তন হয়ে থাকবে।


ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন