যুদ্ধবিরতির খবরে রাস্তায় নেমে উচ্ছ্বাস ফিলিস্তিনিদের, আছে শঙ্কাও

যুদ্ধবিরতির খবরে রাস্তায় নেমে উচ্ছ্বাস ফিলিস্তিনিদের
যুদ্ধবিরতির খবরে রাস্তায় নেমে উচ্ছ্বাস ফিলিস্তিনিদের


যুদ্ধবিরতির খবরে রাস্তায় নেমে উচ্ছ্বাস ফিলিস্তিনিদের, আছে শঙ্কাও

গাজা ও ফিলিস্তিনের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাস্তায় নেমে এসেছে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। দীর্ঘদিনের সংঘাত, রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞের পর এই খবর যেন তাদের মনে এক ঝলক আশার আলো জ্বালিয়েছে। গাজার সরু গলি থেকে শুরু করে রামাল্লার প্রাণকেন্দ্রে, সর্বত্রই দেখা গেছে উৎসবমুখর জনতার ভিড়। পতাকা হাতে, হাসিমুখে তারা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করছে, গান গাইছে, এমনকি মিষ্টি বিতরণ করছে। তবে এই উচ্ছ্বাসের মাঝেও রয়েছে এক অজানা শঙ্কা—এই শান্তি কি স্থায়ী হবে?

উৎসবের মাঝে আনন্দের ঢেউ

গাজার আল-রিমাল এলাকায় তরুণ ফয়সাল আহমেদ বলেন, “আমরা ক্লান্ত, কিন্তু এই খবর আমাদের নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।” তার কথায় ফুটে ওঠে ফিলিস্তিনিদের মনের গভীর আকাঙ্ক্ষা—একটি শান্তিপূর্ণ জীবনের। রাস্তায় শিশুরাও যোগ দিয়েছে এই উৎসবে, তাদের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা আর মুখে হাসি। বৃদ্ধ এক নারী, যিনি বছরের পর বছর ধরে সংঘাতের সাক্ষী, বলেন, “আমি শুধু চাই আমার নাতি-নাতনিরা যেন বোমার শব্দে ঘুম ভাঙতে না হয়।”

শান্তি চুক্তির পেছনের গল্প

যুদ্ধবিরতির এই ঘোষণা এসেছে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার ফলে। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার দীর্ঘ আলোচনার পর এই চুক্তি সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো স্পষ্ট নয়। ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব এই যুদ্ধবিরতিকে “প্রথম পদক্ষেপ” হিসেবে অভিহিত করলেও, তারা সতর্ক রয়েছেন। অতীতে বহুবার যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের ঘটনা তাদের মনে শঙ্কার ছায়া ফেলেছে।

শঙ্কার ছায়া

উচ্ছ্বাসের মাঝেও অনেক ফিলিস্তিনির মনে প্রশ্ন—এই শান্তি কতদিন টিকবে? গাজার বাসিন্দা আয়েশা মাহমুদ বলেন, “আমরা আগেও এমন আশা দেখেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব ভেঙে গেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের শান্তি চাই, কিন্তু তা হতে হবে ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে।” অনেকেই মনে করছেন, যুদ্ধবিরতি টেকসই হতে হলে ফিলিস্তিনিদের অধিকার, বিশেষ করে তাদের ভূমি ও স্বাধীনতার প্রশ্নটি সমাধান করতে হবে।

আগামীর পথ

যুদ্ধবিরতির এই মুহূর্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি শ্বাস ফেলার সুযোগ। কিন্তু এই শান্তি যদি স্থায়ী না হয়, তবে হতাশা আরও গভীর হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপর এখন বড় দায়িত্ব—এই চুক্তি যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। ফিলিস্তিনিরা তাদের রাস্তার উৎসবে আনন্দ প্রকাশ করছে, কিন্তু তাদের হৃদয়ে রয়েছে একটি নীরব প্রার্থনা—এই শান্তি যেন চিরস্থায়ী হয়, এবং তাদের সন্তানরা যেন একটি নিরাপদ, স্বাধীন ফিলিস্তিনে বেড়ে উঠতে পারে।


যুদ্ধবিরতির খবর ফিলিস্তিনিদের মনে আশা জাগালেও, অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা তাদের সতর্ক রেখেছে। রাস্তায় উৎসবের মাঝেও তাদের চোখে-মুখে স্বপ্ন আর শঙ্কার এক অদ্ভুত মিশ্রণ। এই মুহূর্তে বিশ্বের দৃষ্টি ফিলিস্তিনের দিকে। প্রশ্ন থেকে যায়—এই যুদ্ধবিরতি কি সত্যিই একটি নতুন সূচনার পথ খুলবে, নাকি এটিও অতীতের মতো আরেকটি ভঙ্গুর প্রতিশ্রুতি? সময়ই দেবে এর উত্তর।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন