দুবাইয়ে এশিয়া কাপ ফাইনাল: তিলক ভার্মার ফিফটিতে ভারতের নাটকীয় জয়

 

এশিয়া কাপ ফাইনাল: তিলক ভার্মার ফিফটিতে ভারতের নাটকীয় জয়

তিলক ভার্মার ফিফটিতে ভারতের নাটকীয় জয়

দুবাইয়ে এশিয়া কাপ ফাইনাল: তিলক ভার্মার ফিফটিতে ভারতের নাটকীয় জয়

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রোববার সপ্তদশ এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনার সাক্ষী হলো ক্রিকেট বিশ্ব। পাকিস্তানের উড়ন্ত সূচনার পর চরম ব্যাটিং বিপর্যয় এবং তিলক ভার্মার দুর্দান্ত ফিফটির উপর ভর করে ভারতের নাটকীয় জয়ের গল্প নিয়ে এই প্রতিবেদন।

পাকিস্তানের ইনিংস: উড়ন্ত সূচনা থেকে ধস

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান দল শুরুটা করেছিল দুর্দান্ত। মাত্র ১১.২ ওভারে তারা তুলে ফেলে ১০০ রান। ওপেনারদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মনে হচ্ছিল, তারা ২০০-এর বেশি রানের পথে এগোচ্ছে। কিন্তু ভারতীয় বোলারদের দক্ষতা ও কৌশলের কাছে হঠাৎই ধরাশায়ী হয় পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। মধ্যম ও লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা একের পর এক ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। ফলশ্রুতিতে, মাত্র ১৪৬ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল তাদের স্পিন আক্রমণ, যা পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসের মূল কারণ হিসেবে কাজ করে।

ভারতের শুরু: বিপর্যয়ের ছায়া

১৪৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত শুরুতেই ধাক্কা খায়। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ওপেনার অভিষেক শর্মা মাত্র ৫ রান করে ফাহিম আশরাফের বলে হারিস রউফের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। দলীয় মাত্র ৭ রানে প্রথম উইকেট হারায় ভারত। পরের ওভারে শাহিন আফ্রিদির স্লো ডেলিভারিতে ফাঁদে পড়েন ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। মাত্র ১ রান করে মিড অফে সালমান আগার হাতে দারুণ এক ক্যাচে ধরা পড়েন তিনি।

সূর্যকুমার এই টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। চলতি বছরে ১১ ম্যাচে তার মোট রান মাত্র ১০০। ফাইনালেও তার ব্যাট থেকে রান আসেনি, যা ভারতীয় শিবিরের জন্য উদ্বেগের কারণ ছিল। এরপর ফাহিম আশরাফ আবারও ধাক্কা দেন, শুভমান গিলকে (১২) ফিরিয়ে। মিড অনে তার ক্যাচটিও নেন হারিস রউফ। মাত্র ৪ ওভারে ২০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ভারত পড়ে চরম বিপাকে।

তিলক ভার্মার প্রত্যাবর্তন: জয়ের নায়ক

এই কঠিন পরিস্থিতিতে তিলক ভার্মা ও সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে ভর করে ভারত ম্যাচে ফিরে আসে। পাওয়ার প্লের ষষ্ঠ ওভারে ফাহিম আশরাফের বিপক্ষে চার ও ছক্কার মাধ্যমে ১১ রান তুলে তিলক দলকে স্বস্তি দেন। এরপর নবম ওভারে আবরার আহমেদের বলে সঞ্জু স্যামসন ডিপ মিডে ক্যাচ তুললেও পাকিস্তানের ফিল্ডার হুসাইন তালাত সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেন। স্যামসন তখন ব্যক্তিগত ১২ রানে। এই ভুলটাই পাকিস্তানের জন্য ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

তিলক ও স্যামসন মিলে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ ৫৭ রানের জুটি। দুজনই সুযোগমতো বাউন্ডারি হাঁকানোর পাশাপাশি রান নিয়ে প্রান্ত বদল করে দলকে এগিয়ে নেন। তবে আবরার আহমেদ এই জুটি ভাঙেন, স্যামসনকে ২৪ রানে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন।

শেষের রোমাঞ্চ: তিলকের ফিনিশিং টাচ

ম্যাচের শেষ দিকে রানরেটের চাপ বাড়ছিল ভারতের উপর। কিন্তু তিলক ভার্মা ১৫তম ওভারে হারিস রউফের বিপক্ষে দুটি চার ও একটি ছক্কার মাধ্যমে ১৭ রান তুলে দলকে মুক্তি দেন। এই ওভারেই তিনি ৪১ বলে ব্যক্তিগত ফিফটি পূর্ণ করেন। পরের ওভারে আবরার ১১ রান দিলে ভারতের জয়ের সমীকরণ দাঁড়ায় ৪ ওভারে ৩৬ রান।

শেষ দিকে দুবের আউটে ম্যাচে রোমাঞ্চ ছড়ায়। তবে তিলকের সঙ্গে তার ৬০ রানের জুটি ভারতের জয়কে অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলেছিল। শেষ ওভারে ১০ রান প্রয়োজন ছিল ভারতের। তিলক চার ও ছক্কার মাধ্যমে মাত্র ২ বল হাতে রেখে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন। তার অপরাজিত ফিফটি এবং দায়িত্বশীল ব্যাটিং ভারতকে এনে দেয় এশিয়া কাপের শিরোপা।

এই ম্যাচে পাকিস্তানের বোলাররা শুরুতে ভারতকে চাপে ফেললেও তিলক ভার্মার দৃঢ়তা ও সঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে তার জুটি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে। পাকিস্তানের ফিল্ডিং ত্রুটি এবং তিলকের শান্ত মাথার ব্যাটিং ভারতকে এই জয় এনে দেয়। এশিয়া কাপের ফাইনালে এমন নাটকীয় জয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন থাকবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন